গতি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ফরাসি ব্র্যান্ড বুগাটি। সাধারণত সুপারকারপ্রেমীদের কাছে গতির ঝড়ে ট্র্যাক কাঁপানোই বুগাটির প্রধান পরিচয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন এক ভিন্ন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিজেদের প্রথম আবাসন প্রকল্প বা রেসিডেন্সিয়াল টাওয়ার নির্মাণ করছে বুগাটি। এ দৌড়ে আরো রয়েছে পোরশে ও অ্যাস্টন মার্টিনের মতো নামি গাড়ি নির্মাতারাও।
বিশ্বের অতিধনীদের জন্য বর্তমানে এক দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের নাম ‘ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্স’। বুগাটির পাশাপাশি পোরশে ও অ্যাস্টন মার্টিনের মতো নামি গাড়ি নির্মাতারাও এখন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট তৈরিতে মন দিয়েছে। এসব আকাশচুম্বী অট্টালিকায় থাকছে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্র্যান্ড নাম বা লোগো এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে যেন তা আভিজাত্যের ছাপ বহন করে। শুধু গাড়ি নির্মাতা নয়, সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কোং ও ইতালীয় ফ্যাশন হাউজ ফেন্ডিও খাতটিতে পা রেখেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডেভেলপার কোম্পানি বিংহাটি প্রপার্টিজের সঙ্গে যৌথভাবে ৪৩ তলার অট্টালিকা নির্মাণ করছে বুগাটি। প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় চমক হলো এর পেন্টহাউজগুলো। এসব আবাসনের মালিকরা নিজেদের প্রিয় গাড়ি ড্রয়িংরুমের পাশেই পার্ক করতে পারবেন। এজন্য ভবনটিতে বিশেষ ধরনের প্রাইভেট কার লিফট রাখা হচ্ছে।
বিংহাটি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বিংহাটি জানান, অনেক গাড়ি বা ঘড়িপ্রেমী কেবল পণ্যটি কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না। তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনেও সে ব্র্যান্ডের আবহ পেতে চান। আর রিয়েল এস্টেট সে সুযোগই করে দিচ্ছে। এ প্রকল্পের ক্রেতা তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র ও বিখ্যাত অপেরা শিল্পী আন্দ্রেয়া বোচেলি। নেইমার তার পেন্টহাউজটির জন্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করেছেন বলে জানা গেছে।
রিয়েল এস্টেট সংস্থা নাইট ফ্রাংকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছর ব্র্যান্ডেড আবাসনের বৈশ্বিক চাহিদা অনেক বেড়েছে। ২০১১ সালে বিশ্বে এ ধরনের আবাসন প্রকল্প ছিল মাত্র ১৬৯টি। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১-তে। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ১৯ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তালিকায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে থাকলেও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে খাতটির ব্যাপক বিস্তার ঘটছে।
প্রপার্টি ফার্ম স্যাভিলস জানিয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্র্যান্ডেড আবাসন প্রকল্প তৈরি হচ্ছে দুবাই শহরে। দুবাইয়ের কর সুবিধা এবং নিউইয়র্ক বা লন্ডনের তুলনায় কম দাম ধনী ক্রেতাদের এখানে টানছে।
এ ধরনের ব্র্যান্ডেড অ্যাপার্টমেন্ট কেবল একটি বাড়ি নয়, বরং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিংস কলেজ লন্ডনের বিপণন অধ্যাপক জিয়ানা একহার্ট বলেন, অতি-ধনীরা এমন সব সম্পদ চান যা সবার কাছে সহজলভ্য নয়। এসব ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা তাদের সামাজিক উচ্চাবস্থানকেই প্রকাশ করে।
বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর জন্য আবাসন খাত আয়ের এক নতুন ও নিরাপদ উৎস। নির্মাণকাজগুলো আবাসন অংশীদাররা করলেও ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহারের ফলে ক্রেতারা ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম দিতে রাজি থাকেন। তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে সব জায়গায় অতিরিক্ত ব্র্যান্ডিং নান্দনিকতাকে নষ্ট করতে পারে। তার পরও আভিজাত্যের এ নতুন দৌড় যে আরো দীর্ঘ হবে, তা বলাই বাহুল্য। —খবর বিবিসি